মোদীর দ্বিতীয় দফায় কী দাঁড়াতে পারে ভারতে মুসলিমদের পরিণতি?

73

শনিবার পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে নবীন এমপি-দের সামনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ভারতের মুসলিম সমাজকে এতকাল ‘কাল্পনিক এক বাতাবরণ’ তৈরি করিয়ে মিথ্যে ভয় দেখিয়ে আসা হয়েছে – যা এবার বন্ধ করার সময় এসেছে।

মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদরা কিন্তু বলছেন, এই ‘ভয়’ আদৌ অমূলক নয় – আর মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি যে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা নিয়ে চলছে তাতে আগামী পাঁচ বছরে অন্যরকম কিছু হবে বলে ভাবাও যাচ্ছে না।

সিওনিতে বিফ-হামলা, পার্লামেন্টে কাল্পনিক ভয়

ভারতে লোকসভার ভোটের ফল তখনও বেরোয়নি।

ভোট গণনার আগের রাতে মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলায় বিফ বা গরুর মাংস বহন করা হচ্ছে, এই সন্দেহে জনতা একজন মহিলা-সহ তিন ব্যক্তিকে আটকে বেদম মারধর করে – যাদের নাম দিলীপ মালভিয়া, তৌফিক ও আনজুম শামা।

খবর পেয়ে প্রথমেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তার করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের – আর মাংসের নমুনা পাঠানো হয় হায়দ্রাবাদে পরীক্ষার জন্য।

এর দুদিন বাদে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মুসলিমদের এতকাল মিথ্যে ভয় দেখিয়ে আসা হয়েছে।

তার কথায়, “এতদিন দেশের সংখ্যালঘুদের ভুল বুঝিয়ে আসা হয়েছে। ভাল হত যদি তাদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করা হত, যদি সমাজজীবনের বিভিন্ন স্তরে ওই সমাজ থেকে নেতারা উঠে আসতেন।”

“কিন্তু তা না-করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তাদের সামনে একটা কাল্পনিক বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে – তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে দূরেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, দাবিয়েও রাখা হয়েছে।”

“শুধুমাত্র ভোটে তাদের কাজে লাগানোর এই ছল এবার বন্ধ হবে, এটাই ২০১৯-এ এসে আমার কামনা।”

হিন্দু রাষ্ট্রের জিগির

কিন্তু মি. মোদীর এই বক্তব্যে কতটা ভরসা করতে পারবেন ভারতের মুসলিমরা?

কারণ এই প্রধানমন্ত্রীর আমলেই গত পাঁচ বছরে দেশের নানা প্রান্তে মুসলিমরা আক্রান্ত হয়েছেন – আর তার দলের নির্বাচনী প্রচারেও বড় অংশ জুড়ে ছিল হিন্দুত্বর জিগির।

কাজেই প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোনও আশার আলো দেখছেন না অ্যাক্টিভিস্ট ফারাহ নাকভি।

মিস নাকভি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “দেখুন আগামীতে কী ঘটবে সেই পূর্বাভাস করতে পারব না – তবে এটুকু বলতে পারি বিজেপির এবারের জয় আসলে হিন্দুত্বর ও হিন্দু রাষ্ট্রের চেতনার জয়, যেটা মৌলিকভাবেই সংখ্যালঘু-বিরোধী।”

“এই হিন্দু রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ছাড়া কিছুই নয়।”

“এখন প্রশ্ন হল, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে যে কথা বলেছেন সেটা কি সংখ্যালঘু প্রশ্নে বিদেশি গণমাধ্যমকে সন্তুষ্ট করার জন্য বললেন – না কি যে দক্ষিণপন্থী ক্যাডাররা গত পাঁচ বছর ধরে যে সহিংসতা আর গণপিটুনি চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন?”

কমেন্ট করুন

ফেসবুক পেইজে লাইক দিন