ঈদ কাটবে বৃষ্টির মধ্যে

71

বৃষ্টির মধ্যেই কাটতে পারে দেশব্যাপী ঈদের আনন্দ। বৃষ্টিতে ভিজেই হয়তো এবার নামাজ পড়তে হবে। কোথাও কোথাও বৃষ্টি না হলেও মাথার ওপর মেঘের ছায়ায় ঠাণ্ডা পরিবেশে নামাজ শেষ করবেন অনেকেই। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস এমনটাই বলছে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মওসুমি বায়ু প্রবেশ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৭ জুন থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল ছুঁতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মওসুমি বায়ু। এটা সারা দেশে পৌঁছতে কমপক্ষে পরবর্তী সাত থেকে ১৫ দিন লেগে যেতে পারে। মওসুমি বায়ু প্রবেশ না করতে পারলেও পশ্চিমা ও পূবালী হাওয়ার সাথে বাংলাদেশের আকাশে প্রচুর জলীয় বাষ্প চলে আসছে। এ জলীয় বাষ্প মেঘ তৈরি করছে এবং ঠাণ্ডা হয়ে বৃষ্টি ঝরছে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে গত দুই-তিন ধরে।

পশ্চিমা ও পূবালী বায়ু দ্বারা আনীত জলীয় বাষ্পেই সামনের কয়েকদিন বেশ বৃষ্টি হতে পারে। এর মাধ্যমেই শেষ হতে চলেছে চলতি তাপদাহ অবস্থা। এ মাসে কোনো তাপদাহের সম্ভাবনা নেই। ফলে সারা দেশে ঈদের ছুটির মধ্যে বিরাজ করবে বেশ সহনীয় পরিবেশ।

এ দিকে কানাডা থেকে ক্লাইমেটোলজিস্ট মোস্তফা কামাল পলাশ আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপীয় আবহাওয়ার দফতরের মডেল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, আগামী ৪ ও ৫ জুন খুলনা বিভাগ ছাড়া সারা দেশে ও ৬, ৭ ও ৮ জুন বৃষ্টিপাত হতে পারে। ৬ জুন ঈদ হলে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি মুসলমানের জন্য খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়া সম্ভব হবে না বলে আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল নির্দেশ করছে। এর বাইরে ৫ জুন রাজশাহী বিভাগে (রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ) ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ৬ জুন সারা দিন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ৭ জুন সারা দেশের ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ জুন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া দফতর গতকাল রোববার জুন মাসের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এ মাসে সারা দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো তাপদাহ থাকবে না। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ হতে পারে। এতে ঝড় হওয়ার আশঙ্কা নেই। মওসুমি বৃষ্টিপাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।

কমেন্ট করুন

ফেসবুক পেইজে লাইক দিন